যে তিন ঘরে আপনার মেয়েকে কখনোই বিয়ে দেবেন না
তিন ধরনের বাড়িতে আপনার মেয়েকে বিয়ে দেবেন না। তাহলে আপনার মেয়ের জীবন জাহান্নাম হয়ে যাবে। এই তিন ধরনের ঘরের সাথে কখনোই আত্মীয়তার সম্পর্কে জড়াবেন না। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পূর্ণভাবে নিষেধ করেছেন এই তিন ধরনের ঘরে মেয়েদের বিয়ে দিতে।
যে তিন ঘরে আপনার মেয়েকে কখনোই বিয়ে দেবেন না
একদিন হযরত আলী (রাঃ) তার খেলাফতের মসনদে বসেছিলেন। তখন,একজন ধনী লোক তাঁর কাছে এলেন। ঐ লোক অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি অনেক উদার এবং দানবীর ছিলেন। সে লোকটির চেহারায় খুবই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি ফুটে উঠেছিল।হয়রত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকটিকে বললেন,"কি ব্যাপার আপনাকে এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে কেন।"তখন সে ধনী ব্যক্তিটি বলতে লাগলেন,হে আমিরুল মোমেনীন, আমি আমার অত্যন্ত আদরের মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। কিন্তু,আমি ভয় পাচ্ছি যে, বিয়ের পর আমার মেয়ে হয়তো দুঃখ কষ্ট ও পেরেশানির মধ্যে পড়ে যাবে। আমি ও আমার স্ত্রী পরামর্শ করে আপনার কাছে এসেছি।আপনি আমাকে এমন একটা পরিবারে কথা বলুন বা এমন পরামর্শ দেন যে পরামর্শ অবলম্বন করে আমি আমার মেয়েকে একটা ভালো পরিবারে বিয়ে দিতে পারব। যেখানে, আমার মেয়ের সংসার চিরকাল সুখ শান্তিতে ভরে থাকবে। এবং আমরা আমাদের আদরের মেয়েকে সুখে দেখে নিজেরাও যেন সুখে থাকতে পারি। লোকটি চেহারা দেখে হযরত আলী (রাঃ) বুঝতে পারছিলেন যে লোকটি তার মেয়েকে অত্যান্ত বেশি ভালোবাসে। এবং কোনোভাবে চাইনা বিয়ের পর তার মেয়ে কষ্টে থাকুক। লোককে যেভাবে তার মেয়েকে আদর যত্ন ভালোবাসে বড় করেছে,লোকটি চাই বিয়ের পরও তার মেয়ে সেরকম আদর, ভালোবাসা ও যত্ন পাক। তখন আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু লোকটির হাত ধরে শান্ত করে বললেন,"মাত্র তিনটি বিষয় খেয়াল রাখবে। আমি জানি প্রতিটা মেয়ে তার বাবার ঘরে রাজকুমারী হয়।আর বাবা তাকে নিয়ে চিন্তিত থাকে। অনেক বাবা তো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে থাকলে চার দেয়াল কে ও ছোট মনে করে। ভয় পায় গরম বাতাস তার মেয়েকে স্পর্শ করতে পারে। অতএব, আপনার টেনশনের কোন কারণ নেই। আমার বলা তিনটি বিষয়ে মাথায় রেখে তোমার মেয়ের বিয়ে দেবে।
প্রথমত,যে সংসারের মাথা নারী
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,"তুমি তোমার মেয়েকে এমন ঘরে বিয়ে দেবে না, যেখানে মেয়েদের কথায় পরিবার চলে। তাহলে তোমার মেয়ের সংসার স্থাপনের আগেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমার মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। "
প্রিয় পাঠক, আমরাও দেখে থাকি যে, যখনই কোন মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যায় সে দুনিয়ার যতই ভদ্র নম্র হোক না কেন অনেক গভীর ঘাটাঘাটি করে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুঁজে পাওয়া যায় নারী কর্তৃত্ববাদী পরিবারগুলোতে সাধারণত একজন নারী অন্য নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে থাকে। এজন্য মহান রাব্বুল আলামিন পারিবারিক সিদ্ধান্তগুলো দায়ভার পুরুষের কাঁধে দিয়েছেন।
দ্বিতীয়, যে বাড়িতে নারীদের কোন সম্মান নেই
এরপর হযরত আলী (রাঃ) বলেন,"যে বিষয়টা তুমি মাথায় রাখবে সেটা হচ্ছে যে বাড়িতে নারীদের কোন সম্মান নেই;যেখানে কেবল পুরুষদের শাসন চলে এমন ঘরেও তোমার মেয়েকে বিয়ে দেবে না। হযরত আলী যুক্ত করে বলেন,আমার আগের বক্তব্য শুনে তোমার মনে হতে পারে যে পুরুষ কর্তৃত্ববাদী ঘরে মনে হয় মেয়েকে বিয়ে দেওয়া উচিত ।যেহেতু, নারী কর্তৃত্তবাদী ঘরে বিয়ে দিলে আমার মেয়ে অসুখী হবে, তার সংসার ভেঙে যেতে পারে,কিন্তু না। হযরত আলী তার নিজের কথাকে ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে বলেন যে, এমন ঘরেও তোমার মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেনা যে ঘরে নারীদের কোন সম্মান নেই।"
প্রিয় পাঠক আমরাও আমাদের আশপাশে অবশ্যই দেখেও শুনে থাকি এমন অনেক ঘর আছে যেগুলো তো পুরুষেরা নারীদেরকে জুতার তলায় মনে করে। অথচ,আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা যা খাও তোমাদের স্ত্রীদেরকেও সম্মানের সাথে তা খাওয়াবে ,তোমরা যে মানের পোশাক পর তাদের ও তাই পরাবে, তাদের সাথে সম্মানের সাথে কথা বল, তাঁরা রাগ বা তোমার উপর অভিমান করলে নরম ভাষায় তাদের অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করো।"
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,"নারীরা তোমাদের পোশাক আর তোমরা তাদের পোশাক।"
কিন্তু ,এমন কিছু পরিবার আছে যেখানে ইসলামের নাম ভাঙিয়ে পুরুষেরা শুধু নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব কে প্রচার করে এবং স্ত্রীদের বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না। আবার, এমন কিছু লোকও আছে যারা বউয়ের উপর অত্যাচার করতে পারলে খুশি হয় । পৈশাচিক আনন্দ পায়।বউয়ের উপর অত্যাচার করাকে বাহাদুরি মনে করে। যদিও স্ত্রী উপর অত্যাচার করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাপুরুষতা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"স্ত্রীর উপর অত্যাচারকারী জাহান্নামে নিজের গর্ত নিজেই খুড়ছে।"তাই , কোন ব্যক্তির উচিত নয় এমন জায়গায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যেখানে নারীদের সম্মান করা হয় না। হযরত আলী (রাঃ) নিজের কথার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মূলত পারিবারিক সিদ্ধান্তগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে যেন পুরুষ থাকে আবার একইভাবে সেই পুরুষ যেন নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, সম্মান প্রদর্শনকারী হয়;এমন পরিবারগুলো খুঁজে বের করে নিজের মেয়েকে সেখানে বিয়ে দাও।এমন জায়গায় বিয়ে দাও, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ভদ্রতা,নম্রতা এবং সৌহার্দ্যের সাথে আচরণ করে। তার স্ত্রীর হক আদায়ে কোন প্রকার ভুল,অবহেলা করে না। যে তার স্ত্রীর প্রতি এমন ভাবে আসক্ত থাকে যে সে কোন অপরিচিত নারীর দিকে ফিরেও তাকাই না।যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার ভোগ বিলাসের বস্তু মনে করে না। তার স্ত্রীর গুণাবলী দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখে। শুধুমাত্র দোষ খুঁজে বেড়ায় না। ছোটখাটো ভুলকে উপেক্ষা করার মত যোগ্যতা যে পুরুষের আছে,সেই পুরুষের কাছে তোমার মেয়েকে বিয়ে দাও। কারণ, নারী মানে কিছু ছলনা,কিছু ভুল,ত্রুটি থাকবেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এভাবেই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তুমি এমন পুরুষের হাতে তোমার মেয়েকে তুলে দাও,যে অসুস্থতায় তার সেবা করবে এবং দুঃখের সময় তার প্রেমময় উদারতা দয়া এবং আনুগত্যের প্রমাণ দিবে। যে তার স্ত্রীকে পর্দায় রাখে, স্ত্রীর ইজ্জত ও মর্যাদা রক্ষা করে।
তৃতীয়ত,তালাক প্রিয় পরিবার
তৃতীয় নম্বর যে পরামর্শটি দিয়েছেন সেটা হচ্ছে তোমার মেয়েকে তুমি এমন জায়গায় বিয়ে দেবে না, যে পরিবারের বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক খুবই সাধারণ ব্যাপার। এ যেমন ধরো যে ছেলের কাছে বিয়ে দিয়েছো তার বাবাও খুব তালাক প্রিয় মানুষ অথবা তার মা ও খুব তালাক প্রিয় মানুষ। তার ভাইয়েরা ও প্রচুর তালাক দিচ্ছে বা তার বোনদের মধ্যে তালাক দেওয়ার খুবই হিড়িক রয়েছে। এমন তালাক প্রিয় পরিবারে কখনোই তোমার মেয়েকে বিয়ে দেবে না ।অনেকেই মনে করেন যে তালাক দেওয়া তো ইসলামে বৈধ। পবিত্র কোরআনে তালাক নামে একটি সূরা ও আছে। কিন্তু, মাথায় রাখতে হবে আল্লাহ যেখানে সবাই নিজেই বলেছেন, অযথা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। এ পৃথিবীতে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল কাজ হচ্ছে তালাক দেওয়া। আর শয়তান এটাকে খুবই পছন্দ করে।
সব শুনে সে ধনী ব্যক্তিটি অত্যন্ত খুশি হল। সে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহ আনহুর কাছে এসেছিল অত্যন্ত পেরেশানি হয়ে, কিন্তু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কথায় তাঁর মন থেকে সমস্ত পেরেশানি এবং দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।
লেখক এর কিছু কথা:
আরো পড়ুনঃ সম্মানিত হতে চাইলে আলি(রা.) এর সাতটি উপদেশ মেনে চলুন
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url