নিজেকে খুশি রাখার পাঁচটি উপায়

 খুশী সর্বদা আপনার চিন্তা-ভাবনার উপর নির্ভর করে। আপনার সিদ্ধান্তর উপর নির্ভর করে আপনি সুখী হবেন, না দুঃখী হবেন। আপনি হাসবে, না কাঁদবেন। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা খুশি থাকার পাঁচটি উপায় সম্পর্কে জানতে পারব।

নিজেকে-খুশি-রাখার-পাঁচটি-উপায়

খুশি থাকার পাঁচটি উপায়

পাঁচটি এমন পরিবর্তন যা আমি নিজের মধ্যে যদি করে নিতে পারেন তাহলে আপনি যেকোনো সময়, যেকোনো কোন মুহূর্তে, খারাপ থেকে খারাপ পরিস্থিতি ও খুশি থাকতে পারবেন। এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকার নতুন একটি ধারণা সম্পর্কে নিজেকে বোঝাতে পারবেন।


প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটা কারণ থাকে 


আজ আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন,যেমন ই আছেন। কোনদিনও কি ভেবে দেখেছেন পরিস্থিতি এর থেকেও বেশি খারাপ হতে পারতো। 

ছোট্ট একটা গল্প বলি।একটি ছোট শিশুর আঙুল কেটে গিয়েছিল। তার পিতা-মাতা খুবই দুঃখ পেল যে আমার ছেলেটির আঙুল কেটে গেছে। তার কিছুদিন পর সে গ্রামে ডাকাত এসে সব বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে নিয়ে চলে যায়। ডাকাতের সাথে একজন কালো জাদুকর তান্ত্রিকের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। তান্ত্রিক ডাকাতকে বলেছিল, তুমি যদি অমর হতে চাও তাহলে তোমাকে দশটা শিশু বলি দিতে হবে। কিন্তু, শর্ত হচ্ছে বাচ্চা গুলোর প্রতিটা অঙ্গ হতে হবে নিখুঁত। ফলে, ঐ শিশুটি বেঁচে যায়। শিশুটির পিতা-মাতা সৃষ্টিকর্তা কে ধন্যবাদ দিয়ে বলে, ঈশ্বর আপনার সেই দিনের সিদ্ধান্ত ভালোই ছিল। না হলে আজ আমরা আমাদের সন্তানকে হারাতাম।

সুতরাং, নিজের সাথে খারাপ কিছু ঘটলে দুঃখিত হবেন না, কষ্ট পাবেন না। প্রতিটা খারাপের মধ্যেই মঙ্গল নিহিত। রাতের অন্ধকার আলোর বার্তা দেয়। অতএব,অন্ধকারকে উপভোগ করতে শিখুন।

আমরা অনেক সময় ভাবি, এরকম কেন হচ্ছে আমার সাথে। শুধু আমার সাথেই কেন? পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে। জীবনটা হচ্ছে একটা সিনেমার মতো, একটি দৃশ্য দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন না কি ঘটতেছে আপনার সাথে। বা ঘটার কারণটা কি। এজন্য আপনাকে সিনেমার পরের দৃশ্য গুলো ও দেখতে হবে। একটা সময় এসে আপনি আপনার জবাবটা পেয়ে যাবেন। শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে এবং নিজের কাজ করে যেতে হবে। আমরা ভাবনা চিন্তা ছাড়াই অনেক কাজ করে ফেলি । কিন্তু ,সৃষ্টিকর্তা উইথআউট কারন ছাড়া কোন কিছু করেন না। প্রতিটি কাজের পেছনে একটা কারণ থাকে। আপনি নিজের কর্ম সম্পর্কে বিশ্বাস করুন বা না করুন, সৃষ্টিকর্তা আপনার কর্মে বিশ্বাস করে। আপনি নিজেকে বিশ্বাস করুন বা নাইবা করুন, সৃষ্টিকর্তার উপর উপর অবশ্য বিশ্বাস রাখুন। 

এই পৃথিবীতে কোন কিছু কারন ছাড়া ঘটনা এই চিন্তা ভাবনাটি আপনাকে পজিটিভ থাকতে এবং খুশি থাকতে শক্তি যোগাবে ।


তুলনা করা বন্ধ করুন 


ধরুন,আপনার প্রতিবেশী এক বন্ধু দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে একটা iphone কিনলো। এটা দেখে আপনার এবং জেনে আপনার মধ্যে আগুন জ্বলে উঠলো। অথচ, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি জানতে পারেননি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার মন ঠিক ছিল। কিন্তু, যখনই আপনি তা জানতে পারলেন তখনই আপনার চিন্তা পরিবর্তন হয়ে গেল। কেউ আইফোন নিল, ভালো ব্র্যান্ডের কাপড় কিনলো, ভালো গাড়ি কিনলো এসব দেখলে,এসব শুনলে আপনি নিজেকে ছোট মনে করেন। মনের মধ্যে কালো মেঘে ছেয়ে যায়।

আর এই দুঃখের উৎপত্তি হলো কোথা থেকে? এই দুঃখের উৎপত্তি হলো তখনই যখন আপনি নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা শুরু করলেন। মনে থাকা চিন্তা থেকে যে ইমোশন গুলো তৈরি হচ্ছে তার উৎপত্তি গুলো খুঁজে বের করা একটা দারুন ব্যাপার। 

যখন আপনি আপনার মানসিক চিন্তা পরিবর্তনের উৎপত্তি কারণ খুঁজে বের করতে পারবেন তখন এক প্রকার মানসিক স্যাটিসফেকশন কাজ করে। যদি আপনার কোন বন্ধু, পরিবারে কোনো সদস্য, আত্মীয় যদি ভালো কোন ব্র্যান্ডের পোশাক, গাড়ি এবং মোবাইল কিনে ভালো কিছু করে তাহলে হিংসা না করে বা তাদের সাথে নিজেকে তুলনা করে; নিজেকে ছোট না ভেবে তাদের এচিভমেন্টে গর্বিত হওয়া উচিত। একটা গাড়ি, একটা মোবাইল কয়দিন ই বা মানসিক শান্তি দিতে পারে। মানসিক শান্তির জন্য জরুরী হচ্ছে, নিজের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং আপনার থেকে যে খারাপ পর্যায়ে আছে তার সাথে নিজেকে কম্পেয়ার করা যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে কত ভালো রেখেছেন। তুলনা কখনো মানুষিক শান্তি দিতে পারে না।

নিজেকে ভালোবাসুন


আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ভালবাসুন। নিজেকে ভালোবাসো, নিজের পরিবারকে ভালোবাসো, বন্ধুবান্ধবদের কে ভালবাসুন, আপনি যে কাজের সাথে যুক্ত আছেন সেই কাজকে ভালবাসুন। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমি সবাইকে ভালোবাসি পরিবর্তে তারা আমাকে আঘাত দেয়। তখন কি আমার উচিত না তাদের প্রচন্ড পরিমাণে ঘৃণা করার? উত্তর,হচ্ছে না।

নিজের ফিলোসফি কখনোই পরিবর্তন করা যাবে না। আপনার কাজ হচ্ছে সবাইকে ভালোবাসা। লোকে বিনিময়ে আপনাকে ভালবাসল কি না, কি করছে এদিকে আপনার ফোকাস দেওয়া চলবে না। যারা আপনাকে হিংসা করে, ঈর্ষান্বিত চোখে দেখে তাদের থেকে একটু দূরে থাকতে হবে। 

আপনি যেই অবস্থায় আছেন সে অবস্থানকে ভালবাসুন, আপনি যে কাজ করতে ভালোবাসেন সেই কাজ বেশি বেশি করুন এবং কাজকে ভালোবাসুন। নিজের প্রতিটি গুণকে, চিন্তাকে, ভাবনাকে এবং নিজের আপন সত্তাকে ভালোবাসুন।

নেতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ থেকে দূরে থাকুন 


বিশ্বাস করুন আর নাইবা করুন। কিছু কিছু মানুষ জীবনে কালো মেঘের মতো হয়,  যারা আমাদের আলোকিত সূর্য দেখতে বাধা দেয়। এই নেতিবাচক মানুষ গুলো আপনার মধ্যে নেতিবাচক শক্তিকে জাগ্রত করে তোলে। যদি আপনারা জীবনে সফল হতে চান, ভালো থাকতে চান তাহলে আপনি আপনার থেকেও ভালো লোকের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করুন। হোক না সে আপনার থেকে বয়সে অনেক বড় বা ছোট। সে আপনাকে এক পার্সেন্ট ভালো হোক বা ১০০%। আপনি তাদের সাথে থাকুন। আপনি আরো অনেক বেশি সুখী হবেন এবং ভবিষ্যতে অনেক সফল একজন মানুষ হবেন। তাই নেগেটিভ লোকদেরকে, নিজেদের লাইফ থেকে একদম অল ক্লিয়ার করে দিন। এ সকল লোকদের সাথে থেকে নিজের এনার্জি গুলোকে নষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই। এদের কাছ থেকে ইতিবাচক কোন কিছু পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা শুধু নেতিবাচক চিন্তাশক্তি। 

সুতরাং, নেতিবাচক মানুষের কথাগুলো কর্ণপাত না করে তা এক কান দিয়ে শুনুন আর এক কান দিয়ে বের করে দিন। নেতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ না নিজেরা শান্তিতে থাকে, না অন্যদের শান্তিতে থাকতে দেয়। আপনি যতই ভালো কাজ করুন না কেন, এরা আপনার প্রতিটি ভাল কাজের মধ্যে নেগেটিভ কিছু খোঁজার চেষ্টা করবে। আপনার কাজ কে কখনোই এপ্রিসিয়েট করবে না।

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি শুধু আপনার। আপনার আপন বলতে শুধু আপনিই। সুতরাং, অন্যের কথায় নিজের হ্যাপিনেস কখনোই নষ্ট করা যাবে না। আপনাকে সুখে রাখার দায়িত্ব আপনার নিজের। 

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন 


জীবনে যখন ঐ কঠিন মুহূর্তে আসবে, বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করবে না, হতাশ মনে হবে, মনে অনেক দুঃখ কষ্ট থাকবে তখন ও নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আপনার মনে অনেক স্বপ্ন রয়েছে যা আপনি সময়ের অভাবে পূরণ করতে পারেননি। এমন অনেক জায়গা আছে যা আপনি সময়ের অভাবে দেখতে পাননি। এমন অনেক প্রিয় লোক আছে যাদের সাথে আপনি অনেকদিন কথা বলেননি। এমন শতশত কাজ আছে যা আপনার আজ ই করা উচিত। বহু সেল্ফ কমিটমেন্ট আছে যা পূরণ করা বাকি আছে। বসে বসে কাঁদার চেয়ে ভালো যে আপনি তা করুন। 

এই সময় বড় বড় লোককে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে এবং ছোট ছোট লোককে নতুন জীবন দিয়েছে। এখানে আপনার দুঃখ আবার কোন বড় জিনিস। তাই ব্যস্ত থাকতে শিখুন। আর জীবনে যতই বড় কঠিন সময় আসুক না কেন সব সময় ভাবুন এটা আমার জন্য খুব সহজ। এ আর এমন কি কঠিন সময়। বিশ্বাস করুন, এই থিওরি  কাজ করবে।


আরো পড়ুনঃ আল্লাহর উপর ভরসা করার পুরস্কার

লেখক এর মতামত

খুশি থাকার জন্য শুধু কাজ করলে খুশি থাকতে পারবেন না। খুশি থাকার টাকা ইনকাম করলেই খুশি থাকবেন না। খুশি থাকার জন্য বাইক কিনলে খুশি থাকবেন না। যদি খুশি হয়ে,খুশি থেকে  টাকা ইনকাম করেন, বাইক কিনেন, মোবাইল কিনেন তাহলে খুশি অবশ্যই পাবেন। মানুষদের কাছে কখনো প্রত্যাশা রাখবেন না। নিজেকে ভালবাসুন এবং সামনে এগিয়ে যান।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url